Thursday, 30 March 2017

রূপকথাটা সামলে রেখো

একটা ছেলে ঘুমের ভেতর করুণ বাঁশি শুনতে পেল।
একটা মেয়ে রূপকথার এক পরীর ডাকে কাজল চোখে নাইতে গেল।
তারপরে এক বুড়ো বুড়ি শ্যাওলা ঘেঁটে বুজল আঁখি
কে সেই বুড়ো? কে সেই বুড়ি? ভাবতে থাকি ভাবতে থাকি...

রূপকথারও পাকলো যে কেশ
সেই ছেলেটা সেই মেয়েটাই বুড়ো বুড়ি, মানিয়েছে বেশ।
রইল পড়ে বাঁশের বাঁশি, রইল পড়ে সিক্ত বসন
আমায় তুমি ডাকতে গিয়ে ভুল করো না ওদের মতন
এখন যদি দুয়ার খুলে ভাঙা চাঁদের টুকরো দেখ

জেনো ওরাই ঘুমিয়ে আছে, রূপকথাটা সামলে রেখো।

Monday, 27 March 2017

পড়ে থাকে
চোখ তো মরুভূমি আজ
অনেক আগে দীঘি ছিল সে।
উট দেখা যায়? মরুজাহাজ?
তাহলে পিঠে দেখই নাহয় বসে।
কোনদিকে পথ বাঁকলে ভাববে তুমি
আরও একটু এগোলে সবুজ গন্ধ
উটের খুরে তপ্ত মরুভূমি
গোপন রেখেছে আমার প্রেমের কবন্ধ।
ক্যাকটাস আর কাঁটার কাছে থেমো
যখন রাতের হেঁয়ালি হাওয়ায় ওড়ে
বালি খুঁড়ে ওই সুড়ঙ্গটাতে নেমো
যেখানে প্রেমের কবন্ধ পচে মরে।
উটের তৃষ্ণা নেই আর
মুখ ভেঙচিয়ে ব্যঙ্গ করছে খালি
মরীচিকা দেখে তেষ্টা পেয়েছিল শেষবার
তার প্রিয়ার রক্ত শুষে নিয়েছিল বালি।
তবু কি আদিম স্বপ্নে বৃষ্টি পড়ে?
সেই যে দুকূল ভাসিয়ে ছোটার নেশা?
চোখের মেয়াদ ফুরলে শূন্য ঘরে
উটের খুরের দাগ পড়ে থাকে—জলেতে বালিতে মেশা।

Saturday, 25 March 2017

বোঝা শক্ত

অজ্ঞান রাজকন্যার দিকে তাকিয়ে দুজন।
কে তাকে জাগিয়ে তুলবে আগে?
হঠাৎ মায়াবন্দর থেকে দৈত্য উধাও, রাজকন্যাও নেই
রাজপুত্র কান্নায় ভেঙে পড়ে, পক্ষিরাজও নিখোঁজ মায়াবী অস্তরাগে।
আসলে তারা তিনজনই পড়ে গেছে রূপকথার ফাঁদে
দৈত্য মরেছে, তার কপালে অরণ্য-হিম ছুঁয়ে রাজপুত্র ভাবে রক্ত

দৃশ্য দেখে কবিরা যখন ঝাঁপ দেবে ভাবছে সম্মোহনের খাদে
প্রিয়া এসে চুপিচুপি মরুঝড় রেখে গেল।
এখন এসব রূপকথা, বালি না স্মৃতি বোঝা শক্ত।
মনে করো
মনে করো অন্ধ বেড়াল তুমি, আমি অন্ধ সাপ
আমি গেলবার আগেই চিবিয়ে খাচ্ছো অন্ধ প্রেমের হাড়, মজ্জা, উত্তাপ।
মনে করো আমি পড়ন্ত বেলা, তুমি পাখির ডানায় ভোর
আমার যেটুকু বাকি, নির্দ্বিধায় কুয়াশায় মুড়ে রেখে গেলে স্তব্ধতার ভিতর।
যুদ্ধ
অস্ত্র অস্ত্র যুদ্ধ লড়ে
অস্ত্র শেষে করল সাবাড়
একটা দিদি রাখল তুলে ভাইয়ের জন্য নিজের খাবার।
আয় খাবি আয় ভীষণ খিদে, ভাত পচে যায় ঘুম আসেনা
কলঙ্ক সব হচ্ছে জড়ো, খুন্‌খুনে মা আর কাশে না
কাশবি না তুই, থাক শুয়ে থাক, যে যার লড়াই লড়ুক একা
অনেক চাঁদের রক্ত মুখে সূয্যি হঠাৎ দিচ্ছে দেখা।
দুই জোয়ানের কথকথা, দুই সমাজের মুড়োর গাড়ি
দুই নাবিকের জাহাজ ভাসে, বানে যেমন ভাসছে হাঁড়ি...
আমার ঘরে যুদ্ধ বাধে
যুদ্ধ খতম, যুদ্ধ বেহাত
ছিনিয়ে আনতে যাচ্ছি যুদ্ধ
কবিতা পথে রুখল নেহাৎ।
“এই কবিতা এইদিকে আয়
এমন হাওয়ায় কই ছিলি তুই?
এবার যাব তোদের বাড়ি
আয় একাকার দুইজনে শুই।”
পাশের ঘরে আগুন আগুন
জ্বলছে ছেলে, জ্বলল মেয়ে
জ্বলতে জ্বলতে লাগছে লড়াই
যুদ্ধ ওদের বসছে পেয়ে।
এক ভগবান, এক শয়তান
যাচ্ছে ছুটে কেউ তো বাঁচুক
কেউ তো তাদের মাথায় তুলে
তাক ধিনাধিন দারুণ নাচুক।
দেয়ালে রস গড়িয়ে পড়ে
সূয্যি গলে রাত্রি নামে
স্পর্শে এবার বিচার কর
কে কার ডাঁয়ে, কে কার বামে।